মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

 

কালের বিবর্তন, পদ্মার ভাঙ্গন আর প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে সূদুর প্রাচীনইতিহাসের পথ পরিক্রমা পেরিয়ে ঐতিহ্যবাহী বিক্রমপুরের পরিণতি মুন্সিগঞ্জের অন্য উপজেলার মতো আজকের লৌহজং উপজেলার অস্তিত্ব। তাই এটা সুদূর প্রাচীন সভ্যতারসূতিকাগার। লৌহজং এর রসগোল্লা ও গোল এর সুনাম সারাদেশে পরিচিতি পেয়েছে ।

 

মুন্সিগঞ্জ সদরের হাতিমারা, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা, লৌহজংয়ের কলাবাগান কাঠপট্টি, সিরাজদিখানের মালখানগর এলাকা ঘুরলে চোখে পড়বে ঐতিহ্যবাহী কাঠ ও টিনের তৈরি ঘর। মুন্সিগঞ্জে এ ব্যবসা শুরু হয় গত শতকের নব্বইয়ের দশকে। শিল্পীর কারুকাজ ও নকশার অপূর্ব সৃষ্টি ছবির মতো এ ঘর নজর কাড়ে যে কারো।

টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা এলাকার জালাল মোল্লা বলেন, ‘১৭ শতাংশ জায়গা ভাড়া নিয়ে ১০টি ঘর নিয়ে আছি। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ দেখতে আসে এসব ঐতিহ্যবাহী রেডিমেড ঘর। আমার এখানে ৫ লাখ টাকা থেকে ৭ লাখ পর্যন্ত রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ঘর। কাঠ, ডিজাইন ও উচ্চতাভেদে দাম নির্ধারিত হয়ে থাকে। তৈরি এসব ঘর মানসম্মত ও দীর্ঘস্থায়ী। এ উপজেলাতে দোতলা ঘর তৈরি হয় খুব কম তবে লৌহজং, সিরাজদিখানে তৈরি হয় বেশি। কিন্তু এসব ঘর তৈরির কাঁচামালের মান বর্তমান বাজারে বেড়ে যাওয়াতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঘর তৈরিতে মিস্ত্রি, জায়গা ভাড়া, পরিবহন খরচ সব কিছু মিলিয়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে। তবুও এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও বংশের ধারা অব্যাহত রাখতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’সিরাজদিখানের মালখানগর এলাকার কারিগর মো. সোবহান বলেন, ‘একটি ঘর ৪-৫ জন মিস্ত্রি মিলে বানাতে সময় লাগে ১০-১৫ দিন। কাঠের দাম, আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। তাই মালিক বেতন দিতে হিমশিম খেয়ে যায়। উন্নতমানের কাঠ দিয়ে বানাতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। আমরা ক্রেতাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে নানাভাবে ঘরকে আর্কষণীয় করার চেষ্টা করি। বেচাকেনা খুব কম, নভেম্বর মাসে একটি ঘর বিক্রি করা গেছে, তাও লোকসান গুণতে হয়েছে। কিন্তু তবুও এই অঞ্চলের মানুষের এইসব ঘরের প্রতি বাড়তি চাওয়া পাওয়ার একটি ব্যাপার কাজ করে।’

লৌহজং উপজেলার কলাবাগান কাঠপট্টি এলাকার মিস্ত্রি মো. খলিল বলেন, ‘এ এলাকায় কাঠ ও টিনের দোতলা রেডিমেড ঘরের চাহিদা বেশি রয়েছে। আমাদের এখানে ১০ জনের মতো মিস্ত্রি কাজ করে। ক্রেতাদের পছন্দের নকশা অনুযায়ী আমরা কাজ করি। এখানে ৫ লাখ টাকা থেকে ১৫ লাখ পর্যন্ত বিভিন্ন ডিজাইনের ঘর রয়েছে। দোতালা ঘর তৈরি করতে আমাদের ২০-২৫ দিনের মতো সময় লাগে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নদীর পাশের উপজেলাগুলোতে ভাঙনের মাত্রা বেশি। এ কারণে সহজেই এসব ঘর সরিয়ে নেওয়া যায়। এ ছাড়া বিক্রি করে নগদ অর্থ পাওয়া যায়। শহরে কিংবা গ্রামে আকাশচুম্বী দালানকোঠা হয়তো বানানো যাবে তবে এসব এলাকার তৈরি করা ঐতিহ্যবাহী কাঠ ও টিনের নজরকাড়া ডিজাইনের ঘর কোথাও পাওয়া যাবে না। এ সকল ঘর কিনতে যে টাকা লাগে তা দিয়ে অনায়াসে পাকা বিল্ডিং বানানো যাবে। তবে এখানকার মানুষের ধারণা, কাঠ ও টিনের রেডিমেড ঘরে থেকে যে শান্তি পাওয়া যাবে তা আর কোথাও পাওয়া যাবে না। শহরের উচ্চবিত্তরা যখন বহুতল অট্টালিকা বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, মুন্সিগঞ্জের এ অঞ্চলের মানুষ তখন কাঠ ও টিনের মধ্যে স্বপ্ন তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন।’

ছবি


সংযুক্তি



Share with :
Facebook Twitter